‘পুজোর আনন্দ’ ভাবলেই মনটা চলে যায় সেই ছোটোবেলায়, যখন পুজো আসছে জানলেই মনটা আনন্দে নেচে উঠতো। পুজোর আনন্দটা শুরু হতো বেশ কিছুদিন আগে থেকে, যখন পুজোর নতুন জামা কেনা হতো।
তারপর স্কুলে পুজোর ছুটি পড়তো, হাতে আসতো ক্যাপ বন্দুক। ফটাস ফটাস শব্দে ক্যাপ ফাটিয়ে আনন্দে মেতে বেড়াতাম।
পুজো শুরু হলে বাবা, মার সাথে ঠাকুর দেখতে বেরোতাম, কয়টা ঠাকুর দেখলাম সেটা গোনাই ছিল পরম আনন্দের। একটু বড়ো হতে বাবা মাকে ছাড়াই বন্ধুদের সাথে বেড়োতাম পাড়ার গন্ডি ছাড়িয়ে অন্য পাড়ায় যেতাম ঠাকুর দেখতে । বাড়িতে না জানিয়ে সেই যাওয়াতে এক ধরনের অ্যাডভেঞ্চার এর আনন্দ পেতাম। এই পুজোর সময়েই প্রথম নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখেছিলাম, পাড়ার পুজোর সুভেনিরে আমার লেখা ছড়া (নীচে )প্রকাশিত হয়েছিলো, সে ছড়াও ছিলো পুজোর আনন্দ নিয়ে লেখা।
পুজোর মজা
সারাদিন হইচই,
কেউ আজ ছোঁয় না বই.
দুষ্টুমিতে নেই কো মানা,
পুজোর দিনে কেউ বকে না।
যা খুশি তাই খাও না কিনে,
পকেট কেমন সেইটা জেনে।
বড়োরা কেউ দেখবে না
বাজে জিনিস খাচ্ছো কি না।
আরো বড়ো হতে , আড্ডায় মহিমা বুঝতে শিখলাম। তখন পুজোর সেরা আনন্দ ছিলো নড়বড়ে কাঠের চেয়ারে প্যান্ডেলে গোল হয়ে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বুঁদ হয়ে থাকা.
এরপর এলো থিম পুজোর যুগ. অপূর্ব সব প্যান্ডেল দেখে, শৈল্পিক কাজ দেখে মুগ্ধ হতে থাকলাম। বিস্মিত হতাম দেখে কত তুচ্ছ জিনিস দক্ষ শিল্পীর হাতে হয়ে ওঠে অনির্বচনীয় শিল্প।
এতরকম আনন্দে ডুবে থেকেও একটা আনন্দের অভাব অনুভব করতাম, সেটা হলো গল্পে পড়া, সিনেমায় দেখা বাড়ির পুজোর আনন্দ। ফিনল্যান্ডে আসার পরে সে অভাব ঘুচে গেলো। এখানকার পুজোয় অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে পড়ে মনে হয় এটাই আমার নিজের পুজো , ঘরোয়া বাড়ির পুজো।