হেলসিঙ্কিতে হুলুস্থুল
(একটি বাঙালি কমেডি-মিস্ট্রি)
নাটকের মূল ভাবনা: দেবঋষি মিত্র
নাট্যরূপ ও চিত্রনাট্য: নাট্য কোম্পানি
আনুমানিক মঞ্চকাল: ২০ মিনিট
[এই নাটকের কাহিনি, চরিত্র, সংলাপ ও ঘটনাবলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে রচিত। বাস্তবের কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থান কিংবা ঘটনার সঙ্গে এর কোনো মিল পাওয়া গেলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও কাকতালীয়। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করা নাট্যকার কিংবা আয়োজকদের উদ্দেশ্য নয়।]
প্রস্তাবনা
[মঞ্চ অন্ধকার। হালকা রহস্যময় সুর। ধীরে ধীরে আলো জ্বলে। Narrator মঞ্চের সামনে আসেন।]
Narrator:
ফিনল্যান্ডের পরিচ্ছন্ন এক শহর। এখানে সবকিছুই সময়মতো হয়ে থাকে …
আর এখানকার বাঙালিরা? তারা ও সময়মতো পুজো করে, মিটিং করে, হাসি-মস্করা করে… সুযোগ পেলে কাঠিও করে!
এখন এরই মধ্যে রয়েছে আমাদের কয়েকজন বিশেষ চরিত্র।
সীতা—গোয়েন্দা উপন্যাস যেন গুলে খেয়েছে ।
তার বোন গীতা—ফিনল্যান্ডে নতুন, কিন্তু Reel বানানোয় একেবারে সিদ্ধহস্ত!
সীতার স্বামী অর্ক—পুজো কমিটির অত্যন্ত stressed সেক্রেটারি।
গীতার স্বামী দীপক—IT Engineer, কথাবার্তায় আজও শান্তিনিকেতনের ছোঁয়া।
সনৎবাবু—ফিনল্যান্ডে তিরিশ বছর আর ফিনিশ সংস্কৃতি নিয়ে জ্ঞান বিলি করেন বিনামূল্যে!
রনি— ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সব সমস্যার সমাধান খোঁজে AI, অথবা App-এ।
Mikko—Finnish media person; কলকাতায় কিছুদিন থাকার কারণে এলোমেলো বাংলা বলতে পারে।
তার Cameraman অতনু—কথায় একটু তোতলায়, কিন্তু ক্যামেরা হাতে আত্মবিশ্বাস টনটনে!
আর সবশেষে, মদনবাবু—প্রতিদ্বন্দ্বী পুজো কমিটির হর্তাকর্তা। কাঠি করায় ওস্তাদ!
তবে এতজন যখন এক মণ্ডপে—অঘটন তো ঘটবেই! এবারের দুর্গাপুজোয় হঠাৎ উধাও এক লাল ডায়েরি, যার পাতায় লুকিয়ে এক রহস্যময় ধাঁধা।
ডায়েরিটা হারিয়েছে, নাকি কেউ সরিয়েছে? ধাঁধার জট খুলবে তো?..
চলুন…দেখাই যাক।
[রহস্যময় সুর আচমকা ঢাকের তালে বদলে যায়। আলো নিভে আবার জ্বলে। নাটক শুরু।]
দৃশ্য ১: উধাও ‘মহাজাগতিক লাল ডায়রি’
স্থান: এসপুর একটি স্কুলের ভেতর তৈরি হওয়া দুর্গাপূজার মণ্ডপ। বাইরে মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রা।
পটভূমি: ব্যাকস্টেজে প্রতিমা সাজানো । সীতা একটা বড় আতশকাঁচ দিয়ে প্রতিমার চারপাশ খুঁজছে।
গীতা সামনে একটা রিল-স্ট্যান্ড নিয়ে লাইভ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গীতা: (মোবাইলের দিকে তাকিয়ে) হ্যালো গাইজ! Welcome to my vlog —‘Durga Puja below zero’!! আজ আমরা এসেছি Finland-এর সবচেয়ে ঠান্ডা দুর্গাপুজোয়…বাইরে ১ ডিগ্রী, কিন্তু feels like -১০.
সীতা: (চিৎকার করে)…. গীতা! রাখ তোর vlog, এখানে একটা মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে!
গীতা: (ক্যামেরা বন্ধ করে)….কী হলো দিদি?..(উত্তেজিত)….মারামারি?
সীতা: তার থেকেও ভয়ঙ্কর!
গীতা: খিচুড়ি শেষ? এটা সাড়ে চুয়াত্তরের থেকেও বড় বিপর্যয়।
সীতা: (থেমে গিয়ে)…ওটা না! মা দুর্গার গয়নার বাক্সের পাশে রাখা লাল ডায়েরিটা উধাও!
গীতা: ওহ মাই গড! ওতে কি Puja committee-র Secret budget ছিল?
সীতা: না! Budget হারালে কেউ খোঁজে না !!
[অর্ক তাড়াহুড়ো করে ফোন নিয়ে ঢোকেন…ফোন বেজেই চলেছে।]
অর্ক: সীতা! সর্বনাশ হয়ে গেছে—লাল ডায়েরিটা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না! আজ media আসবে ডায়েরির ছবি তুলতে, আর এদিকে ডায়েরিই missing!
সীতা: শান্ত হও। আগে ডায়েরিটা খুঁজে বের করতে হবে। আজ থেকে শুরু—Operation Red Diary!
[সনৎবাবু হা-হুতাশ করতে করতে ঢোকেন… সঙ্গে মদনবাবু]
সনৎবাবু: ওরে বাবারে! ওই ডায়রিতে আমার ৩০ বছরের experience থেকে পাওয়া ফিনল্যান্ডের এক স্ব-বিশেষ রহস্য সুরক্ষিত ছিল!
মদনবাবু: কী ব্যাপার সনৎ বাবু! এ যে দেখি ধুতি পরে উত্তমকুমার সেজে মণ্ডপে হাজির। Oh! Lovely……তা ডায়েরি তে কি আপনার ফিনল্যান্ডের রাসলীলার গল্প ছিলো নাকি?
সনৎবাবু: আজ্ঞে না মশাই। এখানে কোন স্পট এ গেলে Northern Lights clear দেখা যায়, সব লেখা ছিল।
মদনবাবু: আজকাল App খুললেই Aurora দেখার spot পাওয়া যায়! তবে আপনার spot নিশ্চয়ই আলাদা—Aurora ওঠার আগে WhatsApp করে, “সনৎদা, আজ আসব?”
সীতা: আজ থেকে সবাই suspect! Kuchh to gadbad hai অর্ক, Kuchh to gadbad hai.
অর্ক: সীতা, এটা Puja committee, CID office নয়!
সীতা: আজ থেকে দুটোই। CID-তে Criminal ধরা হয়, আর committee-তে volunteer। দুটোই বেশ কঠিন।
মদনবাবু: হ্যাঁ ঠিক বলেছ। সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে আছে । কাউকেই সন্দেহের বাইরে রেখো না।
গীতা: আমি বরং এখনই Insta-তে পোস্ট করি — “লাল ডায়েরির খোঁজে লালবাজার”, Hashtag: লালে লাল মদনলাল।
অর্ক: আরে না, না! কেউ কিছু post করবে না! আগে একটা emergency meeting ডাকতে হবে। Minutes of Meeting লিখতে হবে।
সনৎবাবু: MOM— পরে হবে। আগে ডায়েরি!টা খুঁজে দেখা হোক। এই, বাকিরা সব কোথায় গেল? সবাইকে ডাকো!!!
সবাই: হ্যাঁ হ্যাঁ চলুন দেখি।
[অর্ক, সনৎবাবু ও মদনবাবু মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যান।]
Narrator: সবাই যখন লাল ডায়েরির খোঁজে, অন্যরা তখন বাকি জিনিসের খোঁজে ব্যস্ত…
(দীপক শান্তিনিকেতনি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে রঙিন জল খাচ্ছে। সঙ্গে রনি। সীতা আর গীতা গোয়েন্দার মতো গম্ভীর মুখে ঢোকে। গীতার হাতে ক্যামেরা চালু।)
সীতা: Nobody moves! ওদিকে এতবড়ো অঘটন ঘটে গেছে, আর এখানে Babuদের ফুর্তি চলছে। দীপক, কাল রাত ১২টায় মণ্ডপের light off হওয়ার সময় তুমি কোথায় ছিলে?
দীপক: হে ভগবান! আমি তো খাবার ঘরে উঁকি মেরে দেখতে গিয়েছিলাম, যে নাড়ু বানানো হয়েছে কি না? বাইরে যা ঠান্ডা, আমার আঙুলই ঠিকমতো নড়ছে না, আর আমাকেই কি না চোর ভাবছে! তা, চুরিটা করব কোন হাতে শুনি?
গীতা: No excuse, দীপক! I know you। সত্যি করে বলো—ডায়েরিটা নিয়েছ? সত্যি বলো নয়তো এই রিলটা আমি ফেসবুকে ‘my husband is a thief’ caption দিয়ে পোস্ট করে দেব!
দীপক: আরে বাবা সত্যি সত্যি সত্যি তিন সত্যি। আমি ডায়েরিটা নিইনি! আমার মনে হচ্ছে রনি কে একবার জিজ্ঞাসা করলে হয় না। ওকে তো দেখলাম মোবাইল হাতে নিয়ে কি যেনো খুঁজছিলো!
(সীতা রনির দিকে ফেরে। রনি রঙিন জল গিলতে গিয়ে খকখক করে কেশে ওঠে।)
সীতা: রনি কী নিয়েছিস? Case me twist hain……সত্যি করে বল!
রনি: (হাত জোড় করে) দিদি, মাইরি বলছি। আমি শুধু দুটো আলু shunting করেছিলাম।
সবাই: কী? কী? কী?
রনি: খিচুড়িতে আলু কম হয়েছিল বলে নৈবেদ্য থেকে খালি দুটো আলু তুলেছিলাম। ডায়েরি কোথায়, আমি কী করে জানব? আমি তো ওই ডায়েরিটা কোনোদিন চোখেই দেখিইনি!
গীতা: নতুন FB ক্যাপশন -
আলু চোর, আলু চোর, রনি দা, আলু চোর……
App দেখা কাজ ওর, রনিটা তো আলু চোর
সীতা: . তাহলে Aurora app খুলেছিলি কেন?
রনি: অরে না না, আজ Northern Lights dekhar chance ache, তাই app দেখছিলাম।
সীতা: আর ডায়েরি?
রনি: ধুর… এই AI-এর যুগে কেউ ডায়েরি দেখে নাকি?
সীতা: উফ !!! তোর জীবনে AI ছাড়া কিছু আছে?
[অর্ক, সনৎবাবু ও মদনবাবু প্রবেশ করেন। অর্কের ফোন কানে —তিনজনে একসঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে।]
অর্ক: আচ্ছা, শোনো ! Police-এ খবর দেব?
সনৎবাবু: Police খবর পেলেও ডায়েরির রহস্য এত সহজে সমাধান হবে না। কারণ ওই ডায়েরির আসল রহস্য তোমরা এখনও জানো না।
মদনবাবু: (দর্শকের দিকে) এবারে নির্ঘাৎ একটা গুল দেবে।
গীতা: আসল রহস্য? interesting! বলুন, সনৎবাবু— ডায়েরির রহস্যটা কী?
সনৎবাবু: বছর ১০ আগে Finland-এ মাটির নীচে data center বানানোর জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছিল। আমি সেই team-এর প্রধান কর্ণধার ছিলাম।
মদনবাবু: হ্যাঁ, আপনি তো সর্বঘটের কাঁঠালি কলা! বুঝলি তো রনি, Google-এর data center হচ্ছে বলে দিব্যি কোনো একটা ভুলভাল ঘটনাকে টেনে আনছে।
সনৎবাবু: থামুন তো! দশ বছর আগে এখানে ২ রকম লোকেরা মাটি খুঁড়ত—একদল data center-এর জন্য, আরেক দল সোনার খোঁজে। তা মূল বিষয়টা হলো, খননকাজের সময় মাটির নিচে এই পুরোনো ডায়েরিটা পাওয়া যায়। আমার Finnish colleagues-দের কেউই লেখাটা বুঝতে পারেনি। কারণ ডায়েরিটা লেখা ছিল… বাংলায়
রনি: ভাগ্যিস আপনি ছিলেন সনৎ বাবু। বাংলায় কী লেখা ছিলো ডায়েরি তে?
সনৎবাবু: ডায়েরিতে লেখা ছিল বহু বছর আগের এক বাঙালি মহাসাধকের কাহিনি। তিনি নির্জনে সাধনা করবেন বলে বাংলা থেকে উত্তর মেরুর দিকে যাত্রা করেছিলেন।
মদনবাবু: এই রে, আবার শুরু হলো! এ গল্প আর শেষ হবে না। বাঙালি সাধনা করতে উত্তর মেরুতে গেছে—বিশ্বাসযোগ্য?
অর্ক: আমার এত সময় নেই! মা দুর্গার দশটা হাত, আর আমাদের committee-র বারোটা WhatsApp group। আমার দুটো হাত দিয়ে বারোটা বাঁশ সামলাতে হচ্ছে!
সনৎবাবু: আরে, শোনোই না! খুবই interesting story। সেই মহাসাধকের সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী দুর্গা তাঁকে আশীর্বাদ করে যে পুণ্যস্থানে তিনি সাধনা করছেন —সেখানে বরফ জমবে না, মেঘ থাকবে না, শীত-বৃষ্টি তাঁর সাধনায় বাধা দেবে না, এমনকি পশুপাখিরাও শান্ত থাকবে।
মদনবাবু: হ্যাঁ আর তারপরে উনি Santa হয়ে ল্যাপল্যান্ড-এ থেকে গেলেন।—Oh! Lovely!
দীপক: বেশ অবাক করা কান্ড তাই না! ফিনল্যান্ডে বলছেন কিনা এমন জায়গাও আছে যেখানে শীতে বরফ জমে না? এ কথা কেউ শুনলে মানবেন?
সনৎবাবু: সেই সময় নাকি তাই ছিল। পরে তাঁর এক বংশধর পুরো বৃত্তান্তটি ডায়েরিতে লিখে যান। বংশপরম্পরায় গোপন রাখা সেই জায়গা থেকেই নাকি সবচেয়ে ভালো দেখা যায়—মেরুজ্যোতি।
মদনবাবু: কার চটি?
সনৎবাবু: আরে ধুর, চটি না, জ্যোতি জ্যোতি।…মেরুজ্যোতি মানে Northern lights
মদনবাবু: তা, সেই কংসের বংশধরটি কি আপনি? শুনেছি, ’৫২-র Helsinki Olympics-এর সময়ও নাকি swimming pool-এর জায়গা খুঁজতে আপনাকেই ডেকেছিল!
সীতা: যদি ডায়েরির লেখা সত্যি হয়, তাহলে সেই secret spot-টা কোথায়? কোনো map ছিল?
সনৎবাবু: সেটাই তো রহস্য। ডায়েরিতে কোনো সঠিক মানচিত্র ছিল না। ছিল একটি ধাঁধা।
রনি: ধাঁধা? riddle? মনে আছে?
সনৎবাবু: বীজমন্ত্রের মতো মুখস্থ।
শোনো তবে —
পঞ্চমীতে শুরু যার,
নবমী তার মাঝে,
উনিশেই শেষ তার
বিশে নাহি সাজে।
সংখ্যা দিয়ে খুঁজছ যাকে,
সে তো সংখ্যা নয়;
তিনটি চিহ্ন পাশে থাকে ,
তার মাঝেই রহস্য বয়।
মদনবাবু: তা মশাই, বীজমন্ত্র টি মুখস্ত করেছেন, অথচ জায়গাটা non খুঁজে দেখেন নি?
সনৎবাবু: খুঁজলেই যে মিলবে তেমন তো নয়।
সীতা: এ তো সংখ্যা দিয়ে ধাঁধা।
দীপক: সে সংখ্যাগুলো হয়তো ওই ডায়েরির page number-ও হতে পারে!
গীতা: মগজাস্ত্রে শান দে, সীতা! Sherlock violin বাজাত, ফেলুদা Charminar ধরিয়ে বুদ্ধির গোঁড়ায়ে ধোঁয়া দিত—আর তুই…
সীতা: এই, muikku fry-এর মতো আমার bheja-টা আর fry করিস না তো!
রনি: আমি AI-কে দিয়ে solve করব।
গীতা: দেখ, ও যদি পারে….kuchh to……!
সীতা: এই, তুই আবার আমার ডায়ালগ খেয়ে নিলি,তোর ডায়ালগ খাওয়ার অভ্যাসটা গেল না?
অর্ক: আজ আর হবে না। সবাই বাড়ি যাও। কাল সকালে solve করব।
[সকলে মঞ্চ থেকে প্রস্থান করে]
দৃশ্য 2: ধাঁধার রহস্য
স্থান: আলোকিত মণ্ডপ।
পটভূমি: অর্ক মেঝেতে বসে মাথা চুলকায় । সীতা কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। গীতা as usual, রীল বানাতে ব্যস্ত। রনি mobile হাতে নাটকীয়ভাবে প্রবেশ করে।
রনি: আমি ChatGPT-কে ধাঁধাটা দিয়েছিলাম।
গীতা: Solve হলো? কী বলল তোর GPT?
রনি: বলল, “This is an interesting and multidimensional riddle”।
অর্ক: “Interesting” আর “multidimensional”-এর নিকুচি করেছে! তারপর? ধাঁধাটার উত্তর কী?
রনি: তিনটে possible interpretation দিলো আর শেষে বলল, ‘As an AI, I cannot be certain.’
গীতা: জীবনে এই প্রথমবার AI-কে এত বাঙালি-বাঙালি মনে হচ্ছে
সীতা: আচ্ছা, আমার মনে হচ্ছে আমি একটা clue পেয়েছি! (hmmm…) “পঞ্চমীতে শুরু যার” মানে পাঁচ, “নবমী তার মাঝে” মানে নয়,
গীতা: আর “উনিশেই শেষ তার” মানে উনিশ। ৫-৯-১৯! এই সংখ্যাগুলো কি Finland-এর কোনো postcode?
দীপক: ওই ধাঁধায় যত রহস্য আছে, তার চেয়েও বেশি রহস্য লুকিয়ে আছে আমার বউয়ের makeup box-এ!
গীতা: তুমি চুপ করো তো! Makeup box নিয়ে no comments!
সীতা: ধাঁধাটা postcode হলেও তো মিলছে না। আর সত্যি, third line-টাই বা কী বলতে চাইছে? উনিশেই কেন শেষ? কেনই-বা “বিশে নাহি সাজে”? নাহ্, ঠিক মিলছে না!
দীপক: তিথির দিকে নজর রেখে পঞ্চমী থেকে চতুর্দশী পর্যন্ত ধরলে নবমী মাঝখানেই পড়ে। আর পুজোর আমেজ তো পঞ্চমী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত থেকেই যায়। এখানে কি তবে তিথির কথা বলা হচ্ছে?
অর্ক: এই রে, Media-র গাড়ি এসে গেছে! ডায়েরি নেই, spot নেই, riddle-এর solution নেই—মহা মুশকিল! এখন আমি কী করব? এই চলো, সবাই লুকিয়ে পড়ি!
(সবাই তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে। আলো ধীরে ধীরে কমে যায়। [ Mikko, অতনু, ও রনি প্রবেশ করে। অতনুর camera চালু।]
Mikko: (ভাঙা ভাঙা বাংলা-ফিনিশে) Moro! Mä tulin! আমি এসে গেছি… না না, আসিলাম? আরে, missä kaikki? Hei! কেউ আছে নাকি? আমি কলকাতা-তে ছিলাম অনেক টাইম, তাই vähän vähän বাংলা পারি… কিন্তু সবাই täällä tosi turbo-fast বাংলা বলে!
অতনু: হ্যাঁ, সেই জন্যেই তোমার সঙ্গে আমাকে দিয়েছে। আমি তো খাঁটি বা-বা-বা-বাঙালি! আর camera-ও খাঁটি—শুধু battery-টা চীনে!
Mikko: Joo joo, আজ তো Durga Puja- ত Punainen päiväkirja-এর live telecast হবে? সনৎবাবু আমাকে বলল, “Tule tänne!” আমি বললাম “selvä”, আর চলে আসলাম Calkatta-তে শিখেছি, Puja miss করা ei hyvä idea!
অতনু: কিন্তু এখানে তো মণ্ডপ একেবারে খা-খা-খা-খালি । কাউকেই দেখছি না যে। (চারদিকে তাকিয়ে)…তবে camera চালু করে রাখি, কি বলেন?.. পুজোর মণ্ডপে কেউ নেই মানে নির্ঘাত কা-কা-কা-cultural program হচ্ছে।
Mikko: (চারদিকে তাকিয়ে) No niin…Ei ketään? একটা মানুষও নাই?.. Vähän outoa… খুব অদ্ভুত। Puja-তে এত শান্তি থাকলে কিছু একটা varmasti ঘটছে, Voi voi! সনৎবাবু আমাকে বললেন, “Tule tänne,” আর নিজেই ei tule! Hyvä hyvä…Very Bengali invitation!
অতনু: আমরা পু-পু-পু-পুজোর live telecast করব বলে এসেছি। (একটু থেমে) কিন্তু এখনও পর্যন্ত শুধু ফাঁ-ফাঁ-ফাঁ-ফাঁকা মণ্ডপের live telecast করে যাচ্ছি! Red Diary-টাও যে কোথায়, সেটা ক্যা-ক্যা-ক্যা-camera-তেও দেখা যাচ্ছে না! Diary না মিললে Breaking News কিন্তু পাক্কা!
রনি: কিন্তু সনৎবাবু কি আপনাদের আজই আসতে বলেছিলেন?
[সনৎবাবু, সীতা আর গীতার প্রবেশ]
সনৎবাবু: হ্যাঁ, হ্যাঁ—আমিই ওনাদের আজ আসতে বলেছিলাম! কিন্তু লাল ডায়েরিটা না পেলে আপনাদের সেই secret spot-টা দেখাব কী করে?
Mikko: Secret spot? Ahaa… salainen paikka! বাংলা-তে কী বলে?.. গোপন জায়গা? Joo, ঠিক বললাম?
অতনু: Red Diary missing মানে চু-চু-চুরি হয়েছে? বলেছিলাম না Diary না মিললে —বে-বে-বে-Breaking News কিন্তু পাক্কা!
সীতা: আমার মনে হচ্ছে, ডায়েরি-চোরটা secret spot-এর direction খুঁজতে আবার এখানে আসবে। এলেই হাতেনাতে ধরব!
গীতা: দিদি, চোরকে যদি ধরেও ফেলিস, প্লিজ একটু স্লো-মোশনে মারিস! সুন্দর একটা ট্রানজিশন রিল হয়ে যাবে!
সনৎবাবু: Good idea! এই, সবাই চলো—মণ্ডপের আলো নিভিয়ে আমরা লুকিয়ে অপেক্ষা করি।
[আলো নিভে যায়। গোয়েন্দা-সুর। অর্ক গায়ে চাদর মুড়ি দিয়ে চুপি চুপি মণ্ডপে…সবাই ছুটে এসে ধরে…সনৎ বাবুর ধুতি খুলে যায় । দীপক মাফলার দিয়ে অর্ক কে বাঁধার চেষ্টা করে…সীতা এসে চাদর খুলে দেখে অর্ক…লাইট অন]
সীতা: সেকি, অর্ক?!! তুমি চোর? Ab to tumhe jail hi hoga….
গীতা: জিজু আপনি?! এ তো দেখছি, ছদ্দবেশী চোর। Secretary by day, diary thief by night—contentটা দারুণ!
অর্ক: বিশ্বাস করো, আমি চোর নই।
দীপক: ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি তো ডায়েরি নিই নি!!
অতনু: চোর নয় তো চো-চো-চো-চোরের মতো চুপি চুপি ঢুকলেন কেনো? আর হাতে কিছু নেই, গায়ে চাদর, দেখে তো camera-রও সন্দেহ হচ্ছে!
সনৎবাবু: (ধুতি হাতে) এই হুড়হুড়ি তে আমার ধুতি টা খুলে গেলো । রহস্য উদ্ধার করতে গিয়ে আমার ঐতিহ্য উন্মোচিত হতে হতে থেকে গেল!
মদনবাবু: Oh! Lovely বলব ভেবেছিলাম, কিন্তু family audience আছে। তা অর্ক, তুমি সেক্রেটারি হয়ে এমন জঘন্য কাজ কি করে করলে?
অর্ক: আরে ধুর মশাই । আমি তো শান্তি দার পুরোহিত দর্পণ খুঁজতে এসেছিলাম । কাল সকালেই পুজোর আগে লাগবে বলে।
সীতা: চাদর মুড়ি দিয়ে?
অর্ক: বাইরে যা ঠান্ডা।
অতনু: ঠান্ডা তো সবারই লাগছে! কিন্তু সবাই তো আর চোরের মতো চাদর মুড়ি দিয়ে মি-মি-মি-midnight operation করতে আসেনি!
(শান্তি দার প্রবেশ)
শান্তি দা: অর্ক, পুরোহিত দর্পণ টা সুমনের কাছে আছে । ও আমাকে জানিয়েছে । তবে আমি পুরোহিত দর্পণ ভেবে এই লাল ডায়েরি টা আমার ঝোলায় ভরে নিয়ে গিয়েছিলাম । দেখো তো তোমাদের কারো কি না।
(সবাই একসাথে) এই সেই লাল ডায়েরি!!!
সীতা: তার মানে… ডায়েরি চুরি-ই হয়নি?
শান্তি দা: আরে না! ভুল করে নিয়ে গিয়েছিলাম। এ নাও।
অতনু: চোর ধরতে গিয়ে শেষমেশ কিনা, secretary ধরা পড়ল, ধু-ধু-ধু-ধুতি খুলল… আর শেষে ডায়েরি নিজেই ঘুরে ফিরে চলে এলো! Breaking News-এর ফু-ফু-ফু-full package!
সনৎবাবু: যাক বাবা! অবশেষে লাল ডায়েরি পাওয়া গেল। জয় মা দুগ্গা! এবার ধাঁধার সমাধান করা হোক.
গীতা: হা, দেখো ডাইরিটা, কোথায় লেখা সেই riddle?
সীতা: এই তো…(হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে) এক মিনিট! এক মিনিট!..সংখ্যাগুলো যদি সংখ্যা না হয়ে alphabet-এর position হয়?
রনি: মানে?
সীতা: শেষের লাইনগুলো…“সংখ্যা দিয়ে খুঁজছ যাকে, সে তো সংখ্যা নয়।” মানে ৫, ৯ আর ১৯ আসলে alphabet-এর position! ‘পঞ্চমী’ মানে ৫—alphabet-এর fifth letter ‘E’। similarly ‘নবমী’ মানে ৯—ninth letter I
গীতা: (উত্তেজিত হয়ে) দাঁড়া দাঁড়া দিদি! (একটু থেমে, হঠাৎ চিৎকার করে) আর উনিশ? Nineteenth letter… S!
সনৎবাবু: আর ‘বিশে নাহি সাজে’। সেই জন্য বিশ অবধি যেতে মানা ।
সীতা: মানে E–I–S! এই সেই জায়গা! এই সেই Secret Spot!
সনৎবাবু: (রহস্যময় হাসি) ঠিক তাই! এখানেই সেই মহান সাধকের উত্তরসূরিরা আজও দেবী দুর্গার আরাধনা করে চলেছেন।
মদনবাবু: Oh! Lovely
Mikko: No niin!!! E-I-S! Nyt minä ymmärsin! এখন আমি বুঝেছে… না, বুঝেছি! Bengali মানুষ রহস্য solve করে, joo joo… আগে mystery-টাকে very difficult বানায়। আগে মিটিং করে, তারপর কমিটি, তারপর তদন্ত… আর শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান! Sitten সবাই মিলে solve করে…আর খুশি হয়! Jooooo এটাই process.
রনি: Correct! Last year EIS থেকে Northern Lights দেখা গিয়েছিল। Finally—দুটো রহস্যই solved!
অতনু: রে-রে-রে-Red Diary কোথায় ছিল?
সবাই: শান্তিদার ঝোলায়!
রনি: আর ধাঁধার উত্তর—
সবাই: E-I-S!
Mikko: No niin! Diary löytyi, mystery solved, salainen paikka löytyi! Kaikki hyvin! এখন সবাই happy, আমি happy, Maa Durga happy! Joo joo, very successful event
মদনবাবু: Successful কি না, সেটা পরে দেখা যাবে। সনৎবাবু, এই Sunday-তে কচি পাঁঠা হচ্ছে তো?
গীতা: একটা final reel হবে না? Three, two, one—বলুন, “E–I–S!”
সবাই: Smile Please!
(এক মুহূর্ত। তারপর সবাই একসঙ্গে হাত তোলে। আলো নিভে যায়।)
—সমাপ্ত—