সেপ্টেম্বর এর শেষ সপ্তাহ - বর্ষা বিদায়ের কালে আকাশে শরতের মেঘের আনাগোনা শুরু হয়েছে। চারিদিক যখন মেতে উঠেছে আসন্ন পূজার উৎসবের মেজাজে, আমি, কলকাতায় বসে, মনের আনাচে কানাচে ভেসে থাকা কিছু বিক্ষিপ্ত চিন্তা ভাবনা কে রূপ দেবার জন্য কলমটা হাতে তুলে নিয়েছি।

নিউ মার্কেট এ গিজ গিজ করছে ভিড়, হাতিবাগান এ পথ চলাই দায় আর গাড়িয়াহাটে শুধু মানুষের মাথা। ক্রেতা বিক্রেতার দরাদরি, দোকানদার বা হকারের হাঁকা হাঁকি আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলেছে রাস্তায় বিস্তর ট্রাফিক জ্যাম। অলিতে গলিতে, বড় রাস্তায় প্যান্ডেলের ছড়াছড়ি। এই চেনা কলকাতার আকাশে বাতাসে শুধু গুঞ্জন - 'মা আসছেন ’ - মা, বাপেরবাড়ি আসছেন ।

‘মা’ অর্থে ‘উমা মা’ তাঁর বাপের বাড়ী আসছেন - সাথে প্রত্যেক বারের মত নিয়ে আসছেন তাঁর চার ছেলেমেয়েকে আর তাঁর পতি দেব, জামাই বাবাজি শিব ঠাকুর কে। এটাই কলকাতার ট্রাডিশনাল ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর ভাবাবেগ, যার সাথে জড়িয়ে আছে শুধুমাত্র শ্রদ্ধা বা ধর্মীয় আচার নয়, আছে পারিবারিক আবেগও। দুর্গামা এখানে শুধু মা মহিষাসুরমর্দিনী নন; তিনি উমা— বাপের বাড়ির আদরের মেয়ে।

এই বংশানুক্রমে পূজা হয়ত সংখ্যায় কম, কিন্তু এখানে নিয়ম আছে, ভক্তি আছে, আছে বোধন, অঞ্জলি, সন্ধিপুজো, ধুনুচি, ঢাক, কাঁসর, ভোগ, সিঁদুরখেলা আর বিষাদ-মাখা বিসর্জন।

কিন্তু এটা তো কলকাতায় দুর্গা পূজার একটা ছোট্ট অংশ। এ যেন অনেকটা রবীন্দ্রনাথকে শুধু “কবি” বলা। বাকি অংশে জুড়ে আছে অসংখ্য সার্বজনীন দুর্গা পূজা; যার মধ্যে আছে কলকাতা তথা বাংলা জুড়ে প্রচুর বিশাল বাজেটের বেশ কিছু মা দুর্গার আরাধনা। আর এই সবকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে বাঙালির ধর্ম, শিল্প, স্থাপত্য ও ইকোনমি। এর সাথে টপিং আছে রংবেরঙের বর্ণাঢ্য আলো , মনমাতানো থিম , রকমারি সুস্বাদু খাবার , বিশাল কেনাকাটা, নতুন নতুন বন্ধুত্ব ও প্রেম। আর তার সাথে তো থাকেই কিছু nostalgia ও রাত জাগা বা traffic jam ইত্যাদি, ইত্যাদি। UNESCO-র বর্ণনায় কলকাতার দুর্গাপুজো এমন এক ‘পাবলিক কালচারাল ইভেন্ট’ যেখানে শিল্পী, কারিগর, নানা থিমের প্যান্ডেল বা মণ্ডপ, পুজো কমিটি, পুরোহিত, ঢাকী সবাই যেন এই উৎসবমুখর শহরটিকে নিয়ে গেছে এক স্বপ্নপুরীর উচ্চতায়, পরিণত করেছে এক বিরাট ‘open-air art space’ বা শিল্পের মুক্তাঙ্গনে। প্যান্ডেল ও থিম নিয়ে দু একটা কথা না বললেই নয়। দেবী দুর্গা প্যান্ডেলে আসেন, কিন্তু তাঁকে দেখতে যাওয়ার জন্য মানুষ যে পরিমাণ প্রস্তুতি নেয়, তাতে মনে হয়—দেবীকে নয়, প্যান্ডেলকেই হয়তো এবার পুজো করা হবে! কোথাও রাজবাড়ি, কোথাও দক্ষিণেশ্বরের মন্দির, কোথাও মিশরের পিরামিড, কোথাও দক্ষিণ- ভারতের মন্দির, কোথাও white house - কোথাও আবার এমন শিল্পকর্ম যে সামনে দাঁড়িয়ে বোঝা যায় না—ভাবনা জাগায় “এটা প্যান্ডেল, না Architecture-এর কোনো PhD thesis?”

কলকাতার আর একটি ঐতিহ্য—প্যান্ডেল hopping। আগে মানুষ পুজো দেখতে যেত। এখন মানুষ বলে—“চল, আজ মিনিমাম চারটে বড় পুজো cover করতে হবে। ‘Cover’! কথাটা শুনলে মনে হয় দুর্গাপূজা নয়, যেন election constituency!

এবার আসি থিম এর কথায় – এর সাথে জড়িয়ে আছে - Lighting, Sponsorship এবং Award! এই থিম গুলোর মধ্যে ফুটে ওঠে অভাবনীয় কল্পনা ও সৃষ্টি ক্ষমতা - কখনো রাবীন্দ্রিক, কখনো নজরুল, কখনো এই দুয়ে মিলে এক, বা কখনো ইউক্রেন বা কাশ্মীরের যুদ্ধ, অথবা যুদ্ধ জাহাজ, আবার কখনো মহাকাশ বা কখনো অবোধ্য - আদি আছে অন্ত নেই।

কোনও পুজোর থিম যদি হয়—“প্রকৃতি ও মানবসভ্যতার দ্বন্দ্ব” - তাহলে দর্শক ভাবেন— “বাহ! কী গভীর চিন্তা!”

আর পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষের চিন্তা বাড়ায় “বাজেটের সঙ্গে মানবসভ্যতার দ্বন্দ্বটা কীভাবে ব্যালান্স করবো?”

কিন্তু এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য শুধু কলকাতার পূজা বা শারদোৎসব নয়।

আমার সৌভাগ্য হয়েছে এই উৎসবকে অন্য শহরে বা বিদেশে অবলোকন করার, প্রফেশনের খাতিরে। আসুন তার কিছু ছবি আঁকার চেষ্টা করি ।

প্রথমেই যাই ভারতবর্ষের ফিনান্সিয়াল ক্যাপিটাল মুম্বাইতে।

মুম্বইয়ে দুর্গাপুজোর মজাটা অন্য জায়গায়।কলকাতায় পুজো হয় neighbourhood বা আশপাশের পাড়া বা এলাকার মধ্যে। আর মুম্বইয়ে অনেক ক্ষেত্রে পুজো হয়ে ওঠে “community survival system”।

বাঙালি পরিবারগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিশাল শহরের নানা প্রান্তে। তাই পুজো হল বছরে একবার সবাইকে এক জায়গায় আনার সুযোগ বা অজুহাত। ধরুন, দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে Santacruz এ। কিন্তু আশপাশের ভিলে-পার্লে বা আন্ধেরি - বাসি ছাড়াও কেউ এসেছে সাউথ মুম্বাই থেকে বা কেউ নিউ মুম্বাই বা পাওয়াই থেকে। উদ্দেশ্য সকলেরই এক। বছরে অন্তত একবার সবাই উৎসুক এক জায়গায় মিলিত হতে বা ভাবের আদান প্রদান করতে, আনন্দ করতে । শুধু মায়ের টানে । সকলের পোশাক-আশাকেও থাকে প্রাচুর্যের ছড়াছড়ি - লেটেস্ট ফ্যাশন। কলকাতায় আমরা বলি—

“পুজো আমাদের পাড়ায়।”

মুম্বইয়ের বাঙালি বলতে পারেন—

“পুজো আমাদের community-তে।”

আর দূরত্ব? সেটা ফ্যাক্টর নাকি! কারণ বাঙালির কাছে— মাত্র দেড় ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে পুজোয় যাওয়া, শুধু দূরত্ব ব্যতীত আর কিছুই তো নয়। এখানে পূজা সমাপন হয় তিথি মেনে। ভোগ খাওয়া - সে তো আছেই। আর হয় সন্ধ্যায় সকলের মিলিত প্রচেষ্টায়, বিচিত্রানুষ্ঠান । এখানে দুর্গাপূজা শুধু পুজো নয়—একটি ঋতু, একটি মানসিক অবকাশ, একটি সামাজিক আনন্দ।

“আগে উমা আসতেন কৈলাস থেকে বাপের বাড়ি।

এখন বাঙালি আসেন London থেকে Kolkata—

কেউ দূর্গা দেখতে, কেউ মণ্ডপ দেখতে, আর কেউ শুধু ‘ভোগটা কেমন হয়েছে’ দেখতে বা পরখ করতে!” এবার চলুন যাওয়া যাক লন্ডনে ‘মায়ের আরাধনায়’।

মা দুর্গার সাথে এবার British timetable-এর সাক্ষাৎ।

এখানে এসে পুজোর সঙ্গে একটা নতুন চরিত্রের পরিচয় হয়— ‘Calendar Management’ !

কলকাতায় পুজো হয় তিথি অনুযায়ী।

লন্ডনে প্রশ্ন: “শনিবার-রবিবার কতজন আসতে পারবেন?”

এটি কিন্তু নিছক রসিকতা নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ব্রিটেনে Bengali diaspora-র প্রয়োজনে অনেক দুর্গাপূজা weekends এ আয়োজন করা হয় এবং পাঁচ দিনের পূর্ণ আয়োজন অনেক সময় তিন দিনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত হয়ে যায় ।

কলকাতার মত রাস্তাজুড়ে প্যান্ডেল হয় না। বদলে, কমিউনিটি হল ভাড়া করা হয়। আর সেটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সপ্তাহান্তেই সীমিত থাকে। কারণটা খুবই সহজ—মা দুর্গা তিথি মেনে আসেন, কিন্তু British Bengali-রা Office-Leave মেনে আসেন!

লন্ডনের পুজোতে, হলের মধ্যে ঢাকও থাকে, ধুনুচি, শাড়ি, পাঞ্জাবি, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও থাকে। আর বাইরে থাকে London Underground, parking restriction, আর আবহাওয়ার খামখেয়ালি। লন্ডনে শরতের আকাশ আছে, কিন্তু কলকাতা বা বাংলার মতো সেই কাশফুলের মাঠ নেই। কিন্তু বাঙালি কী করেছে? কাশফুল না থাকলে কি হয়েছে - কাশফুলের ছবি লাগিয়েছে।

এখানে পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, diaspora identity-রও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আর একটা কথা না বললেই নয়, এই উৎসব নিয়ে আসে ‘Bengali children’-দের নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও হেরিটেজ -এর সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এক অগ্রণী ভূমিকার।

কলকাতায় মা দুর্গা ‘বাড়িতে আসেন’। লন্ডনে মা দুর্গা অনেকটা “community centre-এ booked” হন! এবার চলুন যাই স্ক্যান্ডিনেভিয়া র দিকে - দুর্গা পূজা কেমন হয় Stockholm, Oslo বা Copenhagen এ।

এখানে দুর্গাপুজোর দৃশ্যটি আরও মজার।

বাইরে হয়তো শরতের ঠান্ডা, ভিতরে assembly hall-এ— সেই ঢাকের বাদ্যি , ধূপ, ধুনচির গন্ধে মাতোয়ারা - আছে ঝলমলে শাড়ীর বাহার, আছে ভোগ আর রবীন্দ্রসংগীত। রূপ নিয়েছে বাঙালির বার্ষিক মিলন ক্ষেত্রে। প্রবাসী বাঙালির ভাবের আদান প্রদান সেই অ্যাসেম্বলি হলে। যেন একটি সম্পূর্ণ Bengali cultural world. যেখানে আছে দুর্গা প্রতিমা, traditional dress, Bengali/Hindi/English/Swedish ভাষার ব্যবহার আর আছে ভোগ ও সামাজিক অনুষ্ঠান।

বাইরে পড়ে আছে Sweden, আর ভিতরে গড়িয়াহাট বা শ্যামবাজার।

কোপেনহেগেন এও ছবি টা মোটামুটি একই। পূজার সাথে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালি গান, নাচ এবং সাহিত্য। আর ভোগে থাকে ঝালমুড়ি, সরষে ইলিশ, পিঠে , পায়েস, রসগোল্লা আরও কত কি ! এ এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। প্রবাসী বন্ধুরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এই দিনগুলির আশায়।

অসলো তে ও ছবি টা খুব একটা পাল্টায় না। বাইরে হাড় কাঁপানো শীত আর ভিতরে এক টুকরো মিনি কলকাতা, বাঙালি মেনু বা ভোগ । তাই Stockholm বা Copenhagen বা Oslo- এ পুজো হলেও মনে মনে কলকাতার সেই গলির চিত্রই ফিরে আসে।

ভাবুন তো—

দুর্গাপূজা স্ক্যান্ডিনেভিয়ায়! যেখানে শীত দীর্ঘ, সূর্যের আলো সীমিত, আর বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় ঋতু শরৎকে অনুভব করাও অনেক সময় লটারি পাওয়ার মত ব্যাপার। কিন্তু বাঙালি - পৃথিবীর যেখানেই যাক, একটা জিনিস সঙ্গে নিয়ে যায় — স্মৃতি।

সেই স্মৃতিতে থাকে—

শিউলি ফুল,

কাশবন,

ঢাকের আওয়াজ,

নতুন জামা,

অষ্টমীর অঞ্জলি,

আর অবশ্যই—ভোগ।

এতো গেলো ইউরোপের কথা - এবার চলুন ঘুরে আসি San Francisco, USA এর দিকে।

San Francisco Bay Area র Puja-র একটি চমৎকার তথ্যও আছে। জানা যায়, 1970 এর দশকের শুরুতে খুব অল্প কয়েকজনকে নিয়ে Private Residence-এ পুজোর সূচনা হয়েছিল; পরে অংশগ্রহণ বাড়তে বাড়তে School, Church এবং Community Venue-তে দুর্গা পূজার কলেবর বাড়তে থাকে। এই ধরনের ইতিহাসের সাথে আমি লন্ডনেও পরিচিত হয়েছি।

এখানে মাতৃবন্দনা তো আছেই, তার সাথে আছে ভোগ। আর আছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , কনসার্ট ইত্যাদি। আমেরিকার পূজার কথা বলতে গেলে একটা সিলিকন ভ্যালি joke এর কথা মানে পড়ে যায় – কলকাতায় পুজো কমিটি বলে:

“এই বছর নতুন theme করব।”

Silicon Valley-তে বলা হতে পারে:

“This year we are launching a new Puja!”

কলকাতায় Sponsor খোঁজা হয়।

California-তে Sponsor-এর সঙ্গে হয়তো Website, Registration link, QR code, Volunteer signup-ইত্যাদিও চলে আসে! সেই চেনা পরিচিত প্রবাসী বাঙালি পুজো - তবে পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে মার্কিনি ভার্সন।

তাহলে বদলায় কি?

আর সেখানেই লুকিয়ে আছে দুর্গাপুজোর সবচেয়ে সুন্দর রহস্য - দেবী বদলান না।

মন্ত্র বদলায় না।

অঞ্জলি বদলায় না।

সিঁদুরখেলা বদলায় না।

কিন্তু বদলে যায়—পরিবেশ।

কলকাতায়—

“মা এসেছেন পাড়ায়।”

মুম্বইয়ে—

“মা এসেছেন বাঙালিদের একত্র করতে।”

লন্ডনে—

“মা এসেছেন কমিউনিটি হল -এ—Saturday afternoon থেকে Sunday evening পর্যন্ত!”

Stockholm-এ—

“বাইরে ঠান্ডা, কিন্তু ভিতরে বাংলার শরৎ।”

California বা San Jose-তে—

“মা এসেছেন —আর তাঁর সঙ্গে এসেছে Bengali food, music, আড্ডা এবং volunteer signup!”

কলকাতার মানুষ যখন প্যান্ডেলে যায়, সে শুধু ঠাকুর দেখতে যায় না।

মুম্বইয়ের বাঙালি যখন পুজোয় যায়, সে শুধু অঞ্জলি দিতে যায় না।

লন্ডনের বাঙালি যখন কমিউনিটি হল -এ যায়, সে শুধু পুজো করতে যায় না।

স্টকহলম বা কোপেনহেগেন -এর বাঙালি যখন শাড়ি পরে হলে ঢোকে, সে শুধু অনুষ্ঠানে যোগ দেয় না। San Jose-র বাঙালি যখন weekend-এ Puja-য় যায়, সে শুধু ভোগ খেতে যায় না।

প্রত্যেকেই একটু করে যেন নিজের বাড়িতে ফিরে যায়।

তফাত শুধু এতটুকু—

কলকাতায় সেই বাড়ি সত্যিই আছে।

আর লন্ডন, Stockholm, Copenhagen, Oslo কিংবা California-তে— বাঙালিরা নিজেরাই সেই বাড়িটা বছরে কয়েক দিনের জন্য বানিয়ে নেয়।

আর সেই বাড়িতে একজন অতিথি প্রতি বছর ঠিক সময়েই আসেন— তিনি মা দুর্গা।

আমার চোখে মা এর যতই globalization হোক, যতই পূজা লন্ডন, স্টকহোম বা ক্যালিফোর্নিয়া তে হোক ;মা এসে গেলে বাঙালির শেষ দুটো প্রশ্ন কিন্তু একই –

“ভোগটা কখন?”

আর তার পরের প্রশ্ন—

“আজ রাতে কোথায় পুজো দেখতে যাবি?”

এই দুই প্রশ্নের উত্তর যতদিন বাঙালি খুঁজবে, ততদিন দুর্গাপুজোরও বয়স বাড়বে— কিন্তু উৎসবের বয়স হবে না। এবার আসি উপসংহার এ

মনের মধ্যে যখন উঁকি মারে কিছু সনাতন প্রশ্ন -ও তার সম্ভাব্য উত্তর – “দুর্গাপূজা আসলে কী?

কারও কাছে ধর্ম, কারও কাছে সংস্কৃতি, কারও কাছে শৈশবের স্মৃতি, কারও কাছে চার দিনের ছুটি— আর বাঙালির কাছে?

বাঙালির কাছে দুর্গাপূজা হল এমন এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন যেখানে আমন্ত্রণপত্র কেউ পায় না, কিন্তু সবাই হাজির হয়!”

আমার মনে হয়, দুর্গাপূজা হল পৃথিবীর একমাত্র উৎসব যেখানে একই সঙ্গে দেবীকে অঞ্জলি দেওয়া যায়, বন্ধুকে জড়িয়ে ধরা যায়, নতুন জামা, শাড়ী বা গহনা দেখানো যায়, আর একটু পরে খুব গম্ভীর মুখে বলা যায়— “ভোগটা আজকাল আর আগের মতো হয় না!”

অনেক কিছুই বদলেছে।

একসময় মা উমা কৈলাস থেকে পিতৃগৃহে আসতেন।এখন বাঙালি নিজেই পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে পিতৃভূমির স্মৃতিতে ফিরে আসে।

আগে পুজো হত জমিদারবাড়িতে। তারপর এল বারোয়ারি পুজো। তারপর কমিউনিটি পূজা ।

এখন London, Stockholm, Copenhagen, San Jose এবং বিদেশের আরও অনেক শহরে —সবখানেই বাঙালির দুর্গাপূজা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—

দেবীর দশ হাত বদলায়নি।

আর বাঙালির পাঁচটি চাহিদাও বদলায়নি—

পুজো চাই,

বন্ধু চাই,

নতুন জামা, শাড়ী বা ড্রেস চাই,

আড্ডা চাই,

আর ভোগ চাই।

আজ এখানেই শেষ করি, প্রার্থনা করি আগামী পূজা আরও আনন্দময় হোক ……