যদি রোজ সকালে চোখ খুলতেই তোমার চোখে মিলত,
বলতে কিছু? হাসতে মৃদু? নাকি আঙুলে আঙুল ছুঁত ?
যদি দুপুরে গন্ধ পেতে মুগের ডাল আর আলু পোস্ত,
চুরমা বাটির স্বাদ কি তবে গরম ভাতে ঘিয়ের মত গলত?
যদি বাদল কোন বিকেলবেলায়, আমার গলায় রবিবাবুর গান আসত,
ভাষা না জেনেও সুরের ছোঁয়ায় তোমারও মন কি উদাস হত?
জমানো এত কথার পাহাড়, আনমনে যদি সাদা পাতায় উজাড় হত,
কাছে এসে বলতে তুমি, “কী লিখছ বললে না তো?”
অফিস থেকে ফিরলে তুমি, গরম চায়ের একান্ত আলাপ,
মনের কথা বলতাম যদি, ভাবতে কি আবেগী প্রলাপ?
নিঝুম রাতে আমার পাশেই তোমার শ্বাসের শব্দ থাকত,
ঘুমের দেশে শান্ত তোমার চেতনা আমায় জড়িয়ে থাকত।
সাতপাকের বাঁধন যদি পুব পশ্চিম মিলিয়ে দিত,
পারতে ভালোবাসতে আমায় ? জীবন যদি অন্য রকম হত?
তোমার চোখ, তোমার হাসি, তোমার স্বরে মুগ্ধ আজও,
অধিকার নেই জানি যখন, দূরে থাকাই হয়তো ভালো।
জানলে না যা অজানাই থাক, সবই কি আর বলার মত ?
অনুভূতিরাই আগলে নিত, যদি অন্য জন্মে দেখা হত।
কে বলল ভালবাসলে পেতেই হয়, নইলে ব্যথার ভারে হৃদয় হারায়?
বন্ধুর হাত বাড়িয়ে রাখলে, হারিয়ে ফেলার ভয় কোথায়?
তবু এই যে এত উথালপাথাল , আবেগমাখা প্রেমের জোয়ার,
ভাবতে বসি, থাকত বেঁচে, যদি হত সেই ডাল-ভাতের সংসার ?